শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:১৭ অপরাহ্ন
শাহজাহান আলী,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নে ভূমিদস্যুতা ও বালু সিন্ডিকেটের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ২৫ ফ্রের্রয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। শত শত স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীবৃন্দ যোগদান করে মানববন্ধনকে সাফল্য মণ্ডিত করে তোলেন।
উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সাংবাদিক কল্যাণ সংস্থা কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির সাঃ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান আলী, মোঃ গাজিবর রহমান, পল্লী চিকিৎসক মোহাম্মদ আলী সাজু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনতাজ আলী ডাঃ, ব্যবসায়ী মাহফুজার রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষক ছাইয়েদুর রহমান সুলতান, মাদ্রাসা শিক্ষক রুহুল আমীন, ব্যবসায়ী আহাদ আলী, মুনতাছিমবিল্লাহ, নুরআলম, মোঃ সাজু, মোঃ শাহিন, মোঃ শামীম, মোঃ চানমিয়া, মোঃ হোসেন আলী, শাহআলম, মোঃ ইদ্রিস, মোঃ মিলন, মোঃ শরিফ, তামিম আহমেদ, মোঃ মাহফুজার রহমান, মোঃ মামুনুর রশীদ, মোঃ আমিনুল, মোঃ এনামুল, মোঃ মোকলেছুর রহমান, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ একরামুল হক, মোঃ জহুরুল, রফিকুল, ইন্জু মিয়া, আহেদুল, মমিন মিয়া, ফজলুল হক, ফয়জার, সহ ধামশ্রেনী ইউনিয়নের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানান, ধামশ্রেনী মৌজার ৯ নং ও ১ নং ওয়ার্ডের সংযোগ সবকটি প্রায় ১কি,মি দীর্ঘ এবং ১৮ ফিট প্রস্থ বিশিষ্ট একটি সরকারি রেকর্ড ভুক্ত জনপদ। এই জনপদটি প্রাচীন কাল থেকে এলাকাবাসী যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু স্থানীয় সরকারের পর্যবেক্ষণের অভাব গুরুত্বপূর্ণ এক জনপদটি নিঃচিহ্ন প্রায় । সড়কটি দুটি গ্রামকে সংযুক্ত করেছে, সড়কের সংযোগ স্থলের মধ্যে বুড়ি তিস্তা নালা অবস্থিত। এলাকাবাসী বর্ষামৌসুমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে এপার-ওপারে যাতায়াত করে। ধামশ্রেনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিগত জানুঃ / ২০২৩ ইং রাস্তা সংস্করণ উদ্যেগ গ্রহণ করেন, এবং কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার দুপাশের জমির মালিক আক্তারুল ইসলাম সুজা ও তাহার স্ত্রী তাসমিনা ইসলাম নিপা রাস্তার সংস্কার কাজ তৎকালীন আওয়ামী ক্যাডার জান্নাতুল ফেরদৌস, লিখন সরদার সহ আরও কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা জোর পুর্বক বন্ধ করে দেয়। অজুহাত দেওয়া হয়েছে রাস্তাটি অপরিকল্পিত ভাবে এবং সরকার জোরপূর্বক আমার কৃষি জমির উপর দিয়ে করেছে, রাস্তার সংস্কার বা পুনঃ নির্মাণ হলে আমার কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গত ০৮/০১/২০২৩ ইং তারিখে সহঃ কমিশনার ( ভুমি ), উলিপুর, কুড়িগ্রাম বরাবর আবেদন করেন।
কিন্তু অদ্যবদি কোন অগ্রবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায় নি, বলে এলাকাবাসী দুঃখ প্রকাশ করেন। রাস্তাটির সংস্করণ ও বুড়ী তিস্তা নালায় ব্রীজ স্থাপন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নে গুঁড়ো বালি দিয়েছেন আক্তারুল ইসলাম সুজা ও তাহার স্ত্রী তাসমিনা ইসলাম নিপা। সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায় আক্তারুল ইসলামের জমির রেকর্ডীয় দাগ নাম্বার ১৩৪৫/৫৭। সরকারি রেকর্ড ভুক্ত জনপদের ১৩৪৬ দাগীয় জমি, তাহলে এটা কিভাবে আকতারুলের জমি হয়? প্রশ্ন তোলেন এলাকাবাসী।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসী সূত্র আরও বলেন, রাস্তা নির্মাণে জনগনের উপকার হবে না, অবৈধভাবে জোরপূর্বক ড্রেজার দ্বারা পুকুর খনন করে বালু উত্তোলন, বিক্রি করলে কৃষি জমি ক্ষতি হবে না, জনগণের উপকার হবে? তাই আমরা এলাকাবাসী চাই আমাদের জনপদ বিনষ্টকারী আক্তারুল ইসলাম ও তাহার স্ত্রী তাসমিনা ইসলাম নিপাকে আইনের আওতায় এনে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রয়ের মাধ্যমে লুণ্ঠিত অর্থ পুনরুদ্ধার করে রাস্তার সংস্কার ও বুড়ী তিস্তা নালায় ব্রীজ স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এটা আমরা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সময়ের দাবি। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ একরামুল হক, মোঃ মতিয়ার রহমান, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ ছাইয়েদুর, মোঃ রুহুল আমিন প্রমুখ বলেন, আমরা ছোট বেলায় দেখেছি এই রাস্তাটি দিয়ে গরুর গাড়ি চলতে, এখন এমন অবস্থা যে মানুষ ও চলাচল করতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ এই সবকটিতে বর্ষা মৌসুমে আমরা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করি। গতবছর সাঁকো থেকে পরে একটি বাচ্চার হাত ভেঙে গেছে। রাস্তাটি আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাস্তাটির সংযোগ স্থলের মধ্যে বুড়ি তিস্তা নালায় ব্রীজ স্থাপন অতীব জরুরি। আমরা যখনই রাস্তার সংস্কার আবেদন করি তখনই আখতারুল ইসলাম ও তাহার স্ত্রী তাসমিনা ইসলাম নিপা তাদের পালিত আওয়ামী ক্যাডার জান্নাতুল ফেরদৌস, লিখন সরদার সহ আরও কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী দ্বারা জোরপূর্বক বাধা প্রদান করেন, হুমকি ধামকি দিয়া মামলার ভয় দেখান। আমরা সাধারণ মানুষ, তাদের মতো আমাদের টাকা পয়সা আর দলীয় প্রভাব নেই। তখন আওয়ামী দোসর ও ক্যাডার দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করতো। এখন আওয়ামী পতনের পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমরা আওয়ামী কিংবা বিএনপি বুঝিনা। আমরা চাই আমাদের জনপদ সংস্কার ও বুড়ী তিস্তা নালায় ব্রীজ স্থাপন করে জনদূর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ধামশ্রেনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি জানুয়ারি, ২০২৩ এ রাস্তাটির সংস্করণ কাজ শুরু করলে আখতারুল ইসলাম ও তাহার দোসররা কাজে বাধা প্রদান করেন এবং রাতের আঁধারে রাস্তা কেটে কৃষি জমিতে পরিনত করে, পরবর্তীতে সেখানে ড্রেজার দ্বারা পুকুর খনন করে। এবিষয়ে আমি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভুমি) উলিপুর বরাবর আবেদন করি।
এলাকাবাসী আরো বলেন, ভূমিদস্যুদের কারণে গ্রামীণ জনপদের উপর দিয়ে অতিভারী যানবাহন, ডাম্পার ট্রাক, ট্রাকটর, রাতদিন চলাচল করে বালু বহন করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও সড়ক জনপদের ক্ষতি সাধন করছে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে ভুমিদস্যুরা এখন বেছে নিয়েছে চিলমারী থেকে রানীগঞ্জ, মন্ডলের হাট, কুড়িগ্রাম রোড। এ রোডটি গ্রামের ভিতর দিয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের নজরে আসে না। অতিভারী যানবাহন চলাচলের কারনে রাস্তাটা তৈরির অল্প দিনের মধ্যে ফাটল ধরেছে। ডাম্পার চলাচলের সময় ভুমিকম্পের মতো অনুভুত হয়, রাতে আমার ঘুমাতে পারিনা। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় আখতারুল ইসলাম ও তাহার স্ত্রী তাসমিনা ইসলাম অনুসন্ধানকারী সাংবাদিককে মামলার হুমকি প্রদান করেন। এবং মানিকগঞ্জ সদর থানা সূত্র মুঠোফোনে অনুসন্ধানকারী সাংবাদিক মোঃ শাহজাহান আলীকে জানিয়েছেন যে আখতারুল ইসলাম আপনার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ সদর থানায় অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অভিযোগ বিষয় কিংবা অভিযোগের লিখিত কপি পাননি অনুসন্ধান কারী সাংবাদিক। তাই তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন করছি, তারা যেন আখতারুল ইসলাম সহ বর্তমান ভূমিদস্যুতায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে, আমরা শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।
এই বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার সাহা বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।