শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন
সাহাব উদ্দীন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইসলামখোঁজ নিয়ে জানা যায় একটি অটোরিকশা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিটির পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দেয়। এতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে রাস্তায় পরে থাকে ও অনেক কান্নাকাটি চিল্লাচিল্লি করতে থাকে। চিল্লাচিল্লি কান্নাকাটি শুনে আশেপাশের অনেকেই এসে উপস্থিত হয়। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় কেউই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় নাই তাকে দেখেই চলে যাচ্ছে সবাই। গাড়িটিকে কেউ আটকাতে পারে নাই। মানুষের প্রতি মানুষের হৃদয় থেকে মানবতা মায়া মহব্বত উঠে গেছে বলে মনে হচ্ছে।সম্ভবত পা ভেঙ্গে যাওয়া অথবা মুচকিয়ে যাওয়ার কারণে দাঁড়াতে না পারায় কোথাও যেতে পারে নাই অজ্ঞাত ব্যক্তিটি ।
২৪ শে মার্চ সকাল ৯টায় এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ঘটনাটি আমার চোখে পড়ে। এবং এই অজ্ঞাত ব্যক্তিটির সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি কিন্তু কেউই এর পরিচয় জানেনা। শুধু বলল অনেক ব্যস্ততম সড়ক হওয়ায় এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে হাজার হাজার মানুষ চোখ দিয়ে দেখেই চলে গেছে কারো কোন প্রকার পরিচিত না হওয়ায় এই এক্সিডেন্টকৃত মানুষটির ট্রিটমেন্ট এর জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা কেউ করে নাই। যার কারনে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত এক্সিডেন্ট কৃত অজ্ঞাত ব্যক্তিটি এখানেই পড়ে রয়েছে। ঘটনাটি জানতে পেরে আমি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নাজির মোঃ কামরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করি তার সাথে অজ্ঞাত ব্যক্তিটির এক্সিডেন্টের সম্পর্কে আলোচনা করি । কথা বলার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। বললেন যার কেউ নাই তার পাশে আল্লাহ আছে। সাথে সাথে নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ সজ্জা বিশিষ্ট হাসপাতালের সুপারের সাথে আলাপ করেন। এবং আমাকে কারো মাধ্যমে খুব দ্রুত হাসপাতালে জরুরী বিভাগে পাঠানোর পরামর্শ দেন অজ্ঞাত এক্সিডেন্ট কৃত ব্যক্তিটিকে । এবং বলেন আমি সব কিছু বলে দিয়েছি সুপার স্যারকে যাওয়ার সাথে সাথে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করে দিবেন সে। যেই কথা সেই কাজ আমি সাথে সাথে একটি ভ্যান গাড়ি ব্যবস্থা করলাম ও তিনজন লোকের মাধ্যমে হাসপাতাল পাঠিয়ে দিলাম। সেখানে যাওয়ার সাথে সাথে জরুরি বিভাগে আগেই বলা ছিল তাই তাকে সাথে সাথে ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করেন। এবং অবস্থা গুরুতর দেখে বেডে ভর্তি করিয়ে দেন। তার চিকিৎসা চলছে। আগের থেকে এখন কিছুটা উন্নতির পথে। শুনেছিলাম নাজির মোঃ কামরুল ইসলাম এর মন মানসিকতা অনেক ভালো তার মানবিকতা মায়া মহব্বত ও মানুষের প্রতি উদারতা অনেক বেশি। কারো কোন বিপদ দেখলে সে স্থির থাকতে পারেন না। তার এই কার্যক্রমে প্রমাণ পেলাম সত্যিই তিনি অনেক ভালো মনের মানুষ।তার কোন পরিচিত লোক না হওয়ার পরেও তিনি অজ্ঞাত ছেলেটির ট্রিটমেন্টের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা সহ চিকিৎসার ঔষধ ও খাবারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করে মনুষ্যত্বের পরিচয় দিয়েছেন । মহান আল্লাহ পাক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এর মঙ্গল করুক।